সুনামগঞ্জ , শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬ , ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দিরাইয়ে সাংবাদিক হত্যাও হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর মোল্লাপাড়ায় প্রবাসীর বাড়ির ফলজ গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ এক মাঠেই ৫২ জাতের ধান, সেরা জাত বাছাইয়ের সুযোগ কৃষকের দেশে সাইবার হামলা নিয়ে উচ্চ সতর্কতা জারি সেতু নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী দেখে কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিলেন এমপি কামরুল শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন: নৌকায় কৈলাস ফিরলেন দেবী দুর্গা সম্প্রীতির বন্ধন সুদৃঢ়, এ ধারা অব্যাহত রাখতে হবে : এমপি নূরুল ইসলাম সাফেলা বড় বিল ও কুড়ি বিলে দখল বুঝিয়ে দিতে বাধা শুভ বিজয়া : অশুভের বিনাশ, সম্প্রীতি ও গণতন্ত্রের জয় হোক বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হল শারদীয় দুর্গোৎসব ৩০ অক্টোবর শুরু হচ্ছে হাজীপাড়া ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের দ্বিতীয় আসর, ২৩ অক্টোবর প্লেয়ার নিলাম সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পূজা করবে আর আনন্দটা সবার, বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মসিউর রহমান সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদে শাস্তির দাবি তাহিরপুরে মানববন্ধন মধ্যনগরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে ইনামুল গণি তালুকদার রুবেল সুনামগঞ্জে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক: সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি সাংবাদিক আলিফ হত্যা ও মোত্তালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার প্রতিবাদে সুনামগঞ্জে মানববন্ধন দিরাইয়ে মাদকবিরোধী সভার পর প্রবাসী লিমনের ওপর হামলার অভিযোগ ‎সব ধর্মের মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ি : প্রধানমন্ত্রী ‎সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষা করতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই : আইনমন্ত্রী

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর

  • আপলোড সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৩:১৭:৩১ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২৩-১০-২০২৬ ০৩:১৯:৩৯ অপরাহ্ন
তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর
প্রীতম দাস::
এক হাতে সংসারের বোঝা, অন্য হাতে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা। অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করেন বাবা স্বাধীন সূত্রধর। সেই সামান্য আয়ে চলে পাঁচ সদস্যের সংসার। তিন সন্তানের দেখাশোনা করতে গিয়ে ঘরের বাইরে কাজ করার সুযোগ নেই মা শ্রীমতী সূত্রধরের। চিকিৎসা, পরিচর্যা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে পরিবারটিকে। এর মধ্যে দুই সন্তান প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও ১৫ বছর বয়সী মেয়ে সৃষ্টি সূত্রধর এখনো ভাতা পাচ্ছে না। তবে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়। আপাতত তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়া এবং সৃষ্টির ভাতা দ্রুত চালুর উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ।
সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার চাকুয়া গ্রামের স্বাধীন সূত্রধরের তিন সন্তান সনজীব সূত্রধর (১৮), সৃষ্টি সূত্রধর (১৫) ও সমাপ্ত সূত্রধর (১২)। তিনজনই প্রতিবন্ধী। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি স্বাধীন সূত্রধর। প্রতিদিন অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে যে টাকা আয় করেন, তা দিয়েই কোনো রকমে চলে সংসার। সন্তানদের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে স্ত্রী শ্রীমতী সূত্রধরের পক্ষে বাইরে গিয়ে কাজ করা সম্ভব হয় না। ফলে সংসারের খরচ ও সন্তানদের প্রয়োজন মেটাতে প্রতিদিনই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হচ্ছে পরিবারটিকে। স্বাধীন সূত্রধরের কণ্ঠে তাই শুধু অভাবের কথা নয়, রয়েছে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগ। তাঁর আক্ষেপ, বড় ছেলে সুস্থ থাকলে হয়তো এই বয়সে সংসারের হাল ধরতে পারত। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন তিন সন্তানকে ঘিরেই তাঁর প্রতিদিনের সংগ্রাম। স্বাধীন সূত্রধর বলেন, আমি মানুষের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পাই। সেই টাকায় টেনেটুনে আমার সংসার চালাতে হয়। আমার বড় ছেলের বয়স এখন ১৮। বড় ছেলেটা সুস্থ থাকলে আমার সংসারের হাল ধরত। আমার সন্তানদের দেখাশোনা করে আমার স্ত্রী। এদের রেখে আমার স্ত্রী কোনো কাজ করতে পারে না। তিনি আরও বলেন, আমার বড় ছেলে ও ছোট মেয়ে প্রতিবন্ধী ভাতা পায়, কিন্তু মেজো মেয়েটা এখনো ভাতা পায়নি। গত এক বছর ধরে শাল্লা সমাজসেবা কার্যালয়ে ভাতার জন্য আবেদন করছি। কেন ভাতা হয়নি, তা আমরা জানি না। সরকারের সব পর্যায়ের সুযোগ সুবিধা পেলে খেয়েপরে বাঁচতে পারব। তিন সন্তানকে আগলে রাখাই মা শ্রীমতী সূত্রধরের প্রতিদিনের কাজ। সন্তানদের পরিচর্যার কারণে তাঁর পক্ষে বাইরে গিয়ে আয় করা সম্ভব হচ্ছে না। সংসারে বাড়তি আয় করার সুযোগ না থাকায় পরিবারের আর্থিক সংকট আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। শ্রীমতী সূত্রধর বলেন, আমার সারাদিন যায় এদের দেখাশোনায়। এদের রেখে বাইরে গিয়ে সংসারের জন্য কোনো কাজ করতে পারি না। সরকারের কাছে আমাদের একটাই চাওয়া তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা, প্রতিবন্ধী ভাতা ও পুনর্বাসনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করে দিলে আমরা হয়তো বাঁচতে পারব। পরিবারটির প্রতিবেশী রঞ্জন সূত্রধরও তাঁদের দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, স্বাধীন সারাদিন অন্যের বাড়িতে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন, আর তাঁর স্ত্রী তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের দেখাশোনা করেন। পরিবারটির চিকিৎসা, আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনে সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্য সুনীল চন্দ্র দাস জানান, তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর সমাজসেবা কার্যালয়ে যোগাযোগ করে পরিবারের দুই সন্তানকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনতে সহযোগিতা করেছেন। সৃষ্টির জন্যও আবেদন করা হয়েছে, তবে এখনো ভাতা চালু হয়নি। এ বিষয়ে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। পরিবারটি যাতে সরকারি সুযোগ সুবিধা পায়, সে জন্য নিজের সাধ্যমতো সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথাও বলেন এই জনপ্রতিনিধি। শাল্লা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বিশ্বপতি চক্রবর্তী বলেন, এই পরিবারটির বিষয়ে আমি অবগত আছি। দুই সন্তানের প্রতিবন্ধী ভাতা হয়েছে। আরেকজনের বিকাশ পেমেন্ট নম্বরটি দিলে ডিসেম্বরের মধ্যে ভাতা পাবে। আর চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় উপকরণ সুনামগঞ্জ জেলা অফিস থেকে দেওয়া হয়। তারপরও সকল প্রকার সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার জন্য আমি চেষ্টা করব। এ বিষয়ে শাল্লা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা প্রিয়াস চন্দ্র দাস বলেন, উপজেলা প্রশাসন থেকে এমন কিছু দেওয়ার মতো সুযোগ সুবিধা নেই। তবে সমাজসেবা থেকে ভাতা পেতে পারে। তারপরও আমরা দেখব, কিছু করা যায় কি না। পরিবারটির বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক নিবাস রঞ্জন দাশ বলেন, আমি এই পরিবারের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। বিকাশ পেমেন্ট নম্বর দিলে খুব দ্রুত ভাতা পাবে। আপাতত আমাদের কার্যালয় থেকে তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়া হবে। পরবর্তীতে তাদের চিকিৎসাসহ সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের এই আশ্বাস পরিবারটির জন্য নতুন প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সৃষ্টির ভাতা চালুর পাশাপাশি তিন সন্তানের চলাচল ও দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় তিনটি হুইলচেয়ার দেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানিয়েছেন তিনি। দিনে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করে সংসার চালানোই যেখানে কঠিন, সেখানে তিন প্রতিবন্ধী সন্তানের চিকিৎসা, পরিচর্যা ও ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা স্বাধীন সূত্রধরের একার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর পরিবারের চাওয়া, শুধু আশ্বাস নয় প্রয়োজনীয় সহায়তা যেন বাস্তবে পৌঁছায়। সৃষ্টির প্রতিবন্ধী ভাতা দ্রুত চালু, তিনটি হুইলচেয়ার হস্তান্তর এবং চিকিৎসাসহ অন্যান্য সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে পরিবারটির দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি আসতে পারে। একই সঙ্গে তাঁদের প্রাপ্য সরকারি সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। স্বাধীন সূত্রধরের পরিবারের এই জীবনসংগ্রাম একটি কঠিন বাস্তবতার কথা মনে করিয়ে দেয় প্রতিবন্ধী সন্তানের পরিচর্যার দায়িত্বের সঙ্গে যখন চরম আর্থিক সংকট যুক্ত হয়, তখন পরিবারের পক্ষে স্বাভাবিক জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়ে।
এখন দেখার বিষয়, জেলা ও উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের দেওয়া আশ্বাস কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয় এবং তিন সন্তানকে নিয়ে বেঁচে থাকার লড়াইয়ে পরিবারটি কতটা কার্যকর সহায়তা পায়।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর

তিন প্রতিবন্ধী সন্তান নিয়ে স্বাধীন-শ্রীমতি দম্পতির জীবনযুদ্ধ: পাশে দাঁড়াচ্ছে সমাজসেবা অধিদপ্তর